কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদ নিয়ে গবেষণায় রাবিপ্রবি-বিএফডিসি’র সমঝোতা স্মারক


আলমগীর মানিক    |    ১২:২৪ এএম, ২০২৬-০৮-২৮

কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদ নিয়ে গবেষণায় রাবিপ্রবি-বিএফডিসি’র সমঝোতা স্মারক

কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন, বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলরের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগ এবং বিএফডিসি যৌথভাবে কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদ নিয়ে গবেষণা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।

সমঝোতা স্মারকে রাবিপ্রবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান চৌধুরী। বিএফডিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মীর হোসাইন ও কাপ্তাই লেক মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনের জেনারেল ম্যানেজার কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম।

অনুষ্ঠানে রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, বিএফডিসির সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাইলফলক। যৌথ গবেষণার মাধ্যমে কাপ্তাই লেকের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা, জাতীয় অর্থনীতিতে এ লেকের মৎস্যসম্পদের অবদান আরও বাড়ানো এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাপ্তাই লেকের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কাপ্তাই লেকের বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় মৎস্য প্রজাতির পুনরুৎপাদন ও সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএফডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মীর হোসাইন বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার মাধ্যমে মাছের চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে রাবিপ্রবির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কৃষিজমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে প্রাকৃতিকভাবে মাছের পোনা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। এ সময় তিনি রাবিপ্রবিতে ফিশারিজ ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে বিএফডিসির সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ লেকের মৎস্যসম্পদ নিয়ে বিএফডিসির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিতে কাপ্তাই লেকের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক একটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় বিএফডিসির প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদ ও জলজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের মজুত মূল্যায়ন, বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক মৎস্যচাষ পদ্ধতি নিয়ে যৌথ গবেষণা করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুদানের জন্য গবেষণা প্রস্তাব তৈরি, যৌথ প্রকাশনা, নীতি প্রণয়নে গবেষণার ফলাফল ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও মাঠভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষকদের বিনিময়, তথ্য বিশ্লেষণ ও মৎস্যসম্পদের মূল্যায়নে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, সম্প্রদায়ভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নেও সহযোগিতা করবে দুই প্রতিষ্ঠান। গবেষণাগার, গবেষণা কেন্দ্র, হ্যাচারি, নৌযান ও মাছ অবতরণকেন্দ্রে গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রবেশাধিকার সহজ করার বিষয়ও সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটি পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এর মেয়াদ নবায়ন করা যাবে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাপ্তাই লেক ব্যবস্থাপনা, মৎস্য গবেষণা, গবেষণাগার সুবিধাসহ বিভাগের বিভিন্ন চাহিদা বিএফডিসির প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএফডিসির কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং গবেষণামুখী ও জীবনমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আওতায় এনে উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাবিপ্রবি ও বিএফডিসির এই যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।