মেহেদী হাসান | ১২:৪৩ এএম, ২০২৬-০৮-১৪
রাঙামাটির কাপ্তাই জেটিঘাট সংলগ্ন নৌপথে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমে ভয়াবহ নৌযানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদ থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানার স্তূপে জেটিঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।
এতে ইঞ্জিনচালিত বোট, মাছবাহী নৌযানসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে পাঁচ মিনিটের মতো সময় লাগে, কচুরিপানার কারণে এখন সেখানে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।
এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ, বোটচালক, যাত্রী ও মাছ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
কাপ্তাই অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্লাটুন ঘাট এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানার স্তূপ জমে আছে।
কোথাও কোথাও এত ঘনভাবে কচুরিপানা জমেছে যে নৌযান নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে স্বাভাবিকভাবে ভিড়তে না পারায় মাছ ওঠানো-নামাতেও সময় লাগছে বেশি। এতে নির্ধারিত সময়ে মাছ বাজারে পৌঁছাতে না পারায় পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
বিলাইছড়িগামী যাত্রী সুজন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর সামনের প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় প্রায় পুরোপুরি ঢেকে গেছে।
সামান্য এই পথ পার হতে অনেক সময় এক ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লেগে যায়। এতে যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন ও মো. রুবেল জানান, বর্তমানে জেটিঘাট এলাকায় নৌযান চলাচলের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা।
স্রোতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নতুন করে কচুরিপানা এসে জমা হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘন কচুরিপানার মধ্য দিয়ে বোট চালাতে গিয়ে প্রায়ই প্রপেলারে কচুরিপানা জড়িয়ে যাচ্ছে। এতে প্রপেলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অতিরিক্ত মেরামত খরচ গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না।
বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার বিভিন্ন অংশ থেকে স্রোতের টানে কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাটে জমা হয়।
এর ফলে মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে প্রবেশ ও বের হতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। সময়মতো মাছ ঘাটে পৌঁছাতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে মাছের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তাঁরা আরও জানান, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। তখন সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় এসে আটকে যায়।
আগের বছরগুলোতে পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোগে বড় ট্রলার ব্যবহার করে কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছিল। এবারও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ঘাট ও সংলগ্ন নৌপথ পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতিবছর এ সময় কাপ্তাই হ্রদ থেকে কচুরিপানা পরিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, মাছ ব্যবসায়ী ও নৌযানচালকদের দাবি, কাপ্তাই হ্রদের নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ী ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা জরুরি।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নৌযান চলাচলে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
মনির হোসেন : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু ও সদস্য অ্যাডভোকেট মামু...বিস্তারিত
মনির হোসেন : রাঙামাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর মৈদং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বর্ণাঢ্...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন, বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ...বিস্তারিত
মনির হোসেন : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু ও সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনসহ সার্বিক সরকারি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited