নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:২৯ পিএম, ২০২৬-০৫-০৯
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাপ্তাই থানার সাবেক ওসি ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির এর নামে ওই স্থানে রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাহাড় কেটে ও নদীপাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সড়ক ধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিলছড়ির হাজীরটেক এলাকায় বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পাশের জায়গায় শ্রমিকরা পুরোনো কয়েকটি পিলার ভেঙে নতুন করে রিসোর্ট নির্মাণকাজ করছেন। সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, জায়গাটি সাবেক ওসি হুমায়ুন কবিরের এবং সেখানে নতুন রিসোর্ট নির্মাণ করা হবে। তারা আরও জানান, বহু বছর আগে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার আহম্মেদ এর কাছ থেকে জায়গাটি কিনে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১৬ বছর ধরে ওই স্থানে কোনো ধরনের স্থাপনা ছিল না। এখন পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় ভারী স্থাপনা নির্মাণের কারণে মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভবন নির্মাণের পর থেকেই মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালককে ওয়াঙ্কা মৌজার হাজারীটেক এলাকায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ এর ৫(১) ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালক রুবায়েত আক্তার আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারী জানান, ২০০৯ সালে জায়গাটি সাবেক ওসি হুমায়ুন কবিরের কাছে বিক্রি করা হয়, যদিও সেটি সরকারি খাস জমি।
অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “আমার এক আত্মীয় এখানে একটি রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করছেন। তারা ২০১৯ সালে অনুমতি পেয়েছেন।” তবে সরকারি খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, “রাঙামাটিতে সরকারি খাস জায়গার ওপর অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে। বেশিরভাগেরই অনুমতি নেই।”
এদিকে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “পুরোনো পিলার ভাঙার বিষয়টি আমরা দেখেছি। তবে সেখানে নতুন কী নির্মাণ হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও সড়ক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মনির হোসেন : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু ও সদস্য অ্যাডভোকেট মামু...বিস্তারিত
মনির হোসেন : রাঙামাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর মৈদং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বর্ণাঢ্...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন, বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ...বিস্তারিত
মনির হোসেন : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু ও সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনসহ সার্বিক সরকারি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited